শুক্রবার সকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অধিবেশনের ১২তম দিনে একযোগে ৩১টি বিল পাস করা হয়।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার লাগামহীন দুর্নীতি করে অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। তাঁর বক্তব্যের মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ব্যয়ের বড় খাত মেগা প্রকল্প হওয়ায় সাধারণ জনগণ বিনিয়োগের সুফল পায়নি।
আওয়ামী সরকারের সময় রাজস্ব আদায়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাজেট ঘাটতি ছিল। লাগামহীন দুর্নীতি ও টাকা পাচারের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল।
গত ১৫ বছরে টাকার মান প্রায় অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১০ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়। তবুও জনগণের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে ভর্তুকি দিয়ে সরকার তেলের দাম বাড়ায়নি।
প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রস্তুত এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার কাজ চলছে।বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও তাঁদের পক্ষে প্রতিমন্ত্রীরা সংসদে ৩১টি বিল উত্থাপন করেন। বিলগুলো দুই ভাগে পাস করা হয়:
সংসদে অনুমোদিত এই ২৭টি বিল হলো:
‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘বাংলাদেশ শ্রম সংশোধন বিল, ২০২৬’; ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল, ২০২৬’; ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন বিল, ২০২৬’; ‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন বিল, ২০২৬’; ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’; ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘স্থানীয় সরকার সিটি কর্পোরেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কতৃপক্ষ বিল ২০২৬’; ‘রাজধানী উন্নয়ন কতৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’; ‘বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন এমেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ ও ‘নেগোশিয়েবল ইনস্টুমেন্টস (সংশোধন) বিল ২০২৬’।
অধ্যাদেশ সংশোধন ও রহিত করে পাস হওয়া বিলসমূহ: অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু অধ্যাদেশ অবিকল না রেখে নতুনভাবে পাস করা হয়েছে:‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ রহিত করে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ এবং‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’পাস হয়।‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ রহিত করে **‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিত ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’** পাস করা হয়।