মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
রাজনীতির শীতল হাওয়ায় তেল মর্দন শুরু - শাহীন মির্জা

রাজনীতির শীতল হাওয়ায় তেল মর্দন শুরু - শাহীন মির্জা

আব্দুল হালিম সরদার


স্রোতে কচুরি পানাও ভাসে স্রোতের বিপরীতে সহজে কেউ যেতে চায় না। আজ যারা জিয়ার সৈনিক বলে নিজ স্বার্থ উদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠে পড়ে লেগেছেন তাদেরকে ১৭ বছরে রাজ পথে খুজে পাওয়া যায় নাই। এখন গাছের শিকড়,গাছের পাতা, হাট বাজারে জলে জঙ্গলে সবাই বিএনপি । ভিন্ন মতাদর্শের নেতা কর্মী, নেতা খুজে পাওয়া যায় না। ঠিক একই নিয়মে আওয়ামীলীগের সময় মায়ের গর্ভের শিশু থেকে বাঁশ ঝারের মরা বাঁশ পাতাও আওয়ামীলীগ করত অন্য দল নেতা মতাদর্শের কোন অস্তিত্ব ছিল না। এই নোংরা সংস্কৃতি থেকে আমরা করে বের হয়ে আসতে পারবো? চাটার দল ওরা তেলের ড্রাম নিয়ে বসে থাকে ওরা জানে কখন কোন নেতাকে কি তেল মারতে হবে, কতটুক তেল মারলে নিজস্বার্থ উদ্ধার হবে! আজ কাল কিছু সংখ্যক মানুষ চাটাকে সাফল্যের গোপন সূত্র মনে করছে, কিছু চাটুকার তেল মারাকে লাভজনক শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। দলের সুসময়ে যারা অতীত ভূলে হাইব্রীড নেতা গিরগিটি নিয়ে বেশী আতিক্ষেতা করেন তারা ভুলে যাবেন না বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলার পাশেই ছিল মীরজাফর, বেঈমান বেশী দূরে থাকে না । পল্টিবাজ ভোল পান্টানো নেতা ওরা গাছেরটাও খাবে তলের টাও কুড়াবে। সুবিধা নিতে এখন শকুনের মত তীক্ষ দৃষ্টিতে চরম সুবিধাবাদীরা নিজের বাপের নাম ও পাল্টে ফেলছে ! কিছু মিডিয়া কর্মী ও বর্নচোরা গিরগিটি ওদের কোন ধর্মনাই নীতি নাই, আদর্শ নাই নিদিষ্ট দল নাই যে দল ক্ষমতায় আসে তাকেই চাটে। ওরা আওয়ামীলীগের সময় বিএনপি কে ঘায়েল করেছে আবার বিএনপির সময় আওয়ামীলীগ জামায়াতকে ঘায়েল করছে। ওদের চরিত্র হচ্ছে নিজের স¦ার্থ উদ্ধার করা । এখন রাজনীতির শীতল হাওয়া বইছে এই সুযোগে অনেকে চাইছে পযান্ত পরিমান তেল মেরে মন জয় করা। প্রতিদন্ধি আরেক চাটুকার এসে বলে স্যার ওর তেলে ভেজাল আছে আমারটা খাটি তেতুল কাঠের খানিতে ভাংগানো তেল। এ যেনো ঘরের শক্র ভীবিষন। শক্র কখনো বিশ্বাস ঘাতক হয় না, বিশ্বাস ঘাতকতা করে কেবল কাছের ঘনিষ্ট মানুষরাই। যারা আজ পা-চাটছে মিষ্টি কথায় আপনাকে অন্ধকারে রাখছে হয়তো তিনিই আপনার বড় শক্র তাকে কখনোই চেনা যায় না। আমরা জানি পৃথিবীতে একেকটা সমাজের পতন হয়েছে তাদের কাছের মানুষের হাত ধরে। রাজনীতিতে বিশ্বস্ত বলে কেউ নেই আছে বিশ্বাস ঘাতকতা। শেখ মুজিবের সবচেয়ে কাছের ও বিশ্বস্ত ছিল খন্দকার মোশতাক সেই মোশতাকই শেখ পরিবারকে খুন করে। ইতিহাস ভুলে গেলে আমরা অন্ধকারে ধাবিত হবো অনেকেরই জানা ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্য হয়েছিল তার নিজেরই দেহরক্ষীর গুলিতে । কি মর্মান্তিক ঘটনা তাই প্রত্যেক নেতাকেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিৎ। তাই চাটার দলদের দূরে রেখে অন্ধবিশ্বাসে বিশ্বস্ত না ভেবে অত্যান্ত তৃক্ষদৃষ্টিতে নিজের খেয়াল নিজেকেই সচেতন থাকতে হবে। আপনাকে ডুবানোর জন্য আপনার পাশের চাটার দল মীরজাফরই যথেষ্ট । কারন মীরজাফরা বুঝে গেছে এখন রাজনীতির শীতল হাওয়ায় তেল মদনের উপযুক্ত সময়। যখন ঝড় হয় তখনই সাহসিকতার সহিত আমকুড়াতে হয়। যে দেশে জন্মের পর তার জন্ম নিবন্ধনের জন্য ঘুষ দিতে হয় সে দেশে ঐ শিশু বড় হয়ে দুর্নীতিবাজ হলে অবাগ হবার কিছুই নাই। মৃত্যু সনদ আনতে ও ঘুষ লাগে এই দূর্নীতি অনিয়মের সংস্কৃতি একদিনের না। সভ্য সমাজ গড়তে হলে সুশাসনের কোন বিকল্প নাই। নীতি নির্ভর রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অসম বন্টন সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য সংস্কার করতে পারলে এবং সকল নাগরিকের আয় বহিভূর্ত সম্পদ রাষ্টীয় কোষাগারে জমা করতে পারলে কয়েক বছরের মধ্যে এদেশ সিঙ্গাপুরের মত উন্নত দেশ হবে নিশ্চিত। আমাদের জ্ঞানের অভাব, সুশিক্ষার অভাব, আদর্শ নীতির অভাব, শ্রদ্ধাবোধ, শিষ্টাচার আর মনুষ্যত্বের অভাব আরো অভাব কৃতজ্ঞতাবোধের। কিন্তু কিছু কুলাঙ্গার নেতা এখনো চায় বাংলাদেশ সারাজীবন পরের হুকুমের গোলামী করুক। আমরা দেখেছি বিগত সরকারের আমলে অবৈধ অর্থ বা কালো টাকা সাদা বা বৈধ করার জন্য ১৫% কর দিলেই বৈধ হতো অর্থাৎ চোরকে ডাকাত, ডাকাতকে দানব বানানোর জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহ জোগানো হতো। নেতাদের উদ্দেশ্য একটাই ক্ষমতা পেলে গাছের শিকড় বাকড় পর্যন্ত খেয়ে ফেলবে দুর্নীতির অর্থই তাদের প্রিয় খাদ্য। ঘোড়া লাল হউক সাদা হউক রং আলাদা হলেও বংশগত বা জিনগত আচরণ একই থাকে, দাড়িয়ে দাড়িয়ে ঘুমায়-ছোলাই তার প্রিয় খাদ্য। যুগ যুগ ধরে মেধাহীন দুবৃর্ত্তরা অনেক জায়গায় নেতৃত্ত্বে আছে।

নেতারা রাজনীতিকে এখন পুঁজিবাদি লাভজনক ব্যবসা মনে করছে। তাই দেশ ও জনতার ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না, সর্বক্ষেত্রে বৈষ্যের কালোছায়া। রাজনৈতিক পরিচয়ে একজন পিয়ন যদি ৪২৬ কোটি টাকার মালিক হয় এবং চলেন হেলিকপ্টার দিয়ে আর একজন ড্রাইভার আবেদ আলী যদি হয় হাজার কোটি টাকার মালিক তবে তো জান প্রাণ দিয়ে নীতি আদর্শ বাদ দিয়ে রাজনীতির ছায়াতলে থাকাই ভালো। স্বার্থে আঘাত লাগলে বা স্বার্থ উদ্দেশ্য উদ্ধার না হলে দল বদল করে এরা দল বদলের নেতা হয় সকালে যাকে বাপ, দাদা বলে বিকালের ভাষনে তাকে সালা বলে! এদের এক অঙ্গে কত রুপ বুকে আর মুখে কত রকমের আদর্শ ধারণ করে। এমন কিছু লোকের জন্য রাজনীতি আজ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, বির্তকিত হচ্ছে। আমরা সংস্কার চাই ব্যক্তির, দলের, প্রশাসনের, শিক্ষার, নির্বাচন পদ্ধতির, চিকিৎসার ও সংবিধানের-স্রোতে আর গা ভাসাতে চাই না। স্রোতে কচুরি পানাও ভেসে যায় এতে কোন কৃতিত্ত্ব নাই। দল আসে দল যায় সব দলের লক্ষ্য উদ্দেশ্য চোখের ক্ষুধার জ¦ালা প্রায় একই। দল বিপদে পড়লে মিছিল মিটিংয়ে জনগণের প্রয়োজন তখন কদর বাড়ে আর ক্ষমতায় গেলে আত্নীয়-স্বজন পরিবারকে নিয়ে হাজার কুটি টাকার লুট পাটের রাম রাজত্ব কায়েম করে। যেখানে মেধার যোগ্যতায় মনুষ্যত্ত্বের বিবেচনায় শুধু রাজা নয়, কামারের ছেলে, মুচির ছেলেও যেনো রাষ্ট্র প্রধান হতে পারে এই ধারায় আমাদের নীতি ও চিন্তার প্রয়োজন। শরীর মোটা তাজা থাকলে অবৈধ অর্থ থাকলে নেতার পিছনে হালুয়া রুটির অভাবী দুই তিনশত লোক থাকলেই তিনি বিশাল ভয়ংকর নেতা। অথচ মাওলানা ভাসানি, তিতুমীর, একে ফজলুল হক, শহীদ জিয়ার মত নেতাদের আদর্শ আজ রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ছিটা ফোটা ও নেই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য শোষিত মজলুম মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, আমজনতার নিপিড়িত মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার নামই রাজনীতির নেতা। অনিয়ম, আধিপত্যবাদ, দুর্নীতিবাজ, সাম্রাজ্যবাদ, স্বজনপ্রীতি, অসম বন্টনের, স্বৈরশাসন, খাদ্যপন্যে সিন্ডিকেট, চিকিৎসা ক্ষেত্রের সিন্ডিকেট, শিক্ষা ক্ষেত্রে, দুর্নীতিবাজ সরকারী চাকরিজীবিদের আয় বহিভূত হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন এর বিরুদ্ধে সংস্কার প্রয়োজন। এখন দলের নাম বেচে মাঠে যারা হুংকার দিচ্ছে তাদের বেশীর ভাগই অন্যদল থেকে আশা অনুপ্রবেশকারী হাইব্রীড নেতা, মতলববাজ, এরা দল বদলের নেতা সুবিধাবাদী ওরাই গিরগিটির মত রং বদলায় দলকে ডুবায়। যে দল ক্ষমতায় আসে ঐ দলেরই দালালী করে তারা দলের আদর্শ নয় নিজের স্বার্থ খোজে আখের গোছায়। ওরা নেতা নির্ভর রাজনীতি করে ওরা লেজুরবৃত্তি রাজনীনিতে অভ্যস্থ ওরাই লুটেরা ওদেরই আনন্দ উল্লাস বেশী থাকে। ২৪ শের গণঅভুন্থানে ছাত্র জনতার রক্তে রাজপথ ভিজে যায় অনেকে শহীদ হয় আর এখন টাকার বিনিময়ে স্বৈরাচারকে পূর্ণবাসন করার জন্য অনেকেই গোপনে বৈঠক করে। ওরা বড়ই ভয়ংকর ওরা মৌসুমে মাছ শিকার করতে জানে। এরা বোঝে রাজনীতির মাঠে কারো ঘর পোড়ে কেউ আলু পোড়া খায় সুযোগে সৎ ব্যবহার করতে এরা পিছ পা হয় না। আজ কেউ ভেবে দেখেছেন কি শেখ পরিবারের একজনও কি গ্রেফতার হয়েছে? লুটেরা ঠিকই সবাই নিরাপদে বিদেশে রাজার হালে আছে। আর দেশের নিরীহ কর্মীগুলো ভয়ভীতি আত্নচিৎকার, গ্রেফতার গণধোলাই আর নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। রাজনীতি অঙ্গনে এখন কর্মীর থেকে নেতা বেশী কারণ নেতা হলে হুংকার, গর্জন, দাম্ভিকতা পেশি শক্তি বেশী তাই চাঁদার পরিমাণ ও বেশী। আজ শহীদ জিয়ার নীতি আদর্শ স্বপ্ন দেশপ্রেম বেশীর ভাগ নেতার মাঝেই খুজে পাওয়া যায় না। গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী তিনি জেল জুলুম বাড়ীছাড়া হলেন-বিদেশে চিকিৎসা করতে পারলেন না, তবু স্বৈরাচারের সাথে আপোষ করেনি। যারা দেশের ইতিহাস ভুলে যায় তারা বিপদগামী হয়, আর যারা দলের ইতিহাস ভুলে যায় তারা মুখ থুবড়ে পড়ে। আওয়ামীলীগের ১৬ বছরের ক্ষমতার সময় খালেদা জিয়ার জেলে ৩০ টাকার ইফতার নিয়ে কি কেউ আন্দোলন করেছেন? খালেদা জিয়ার বাড়ীর সামলে বালুর ট্র্যাক সরাতে পারলেন না, সংগ্রাম করে তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠাতে পারলেন না, তারেক জিয়ার মামলা নিষ্পত্তি করে দেশে আনতে পারলেন না, সংগ্রাম করে ১৬ বছরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনগণের ভোটের অধিকার আদায় করতে পারলেন না, সালাউদ্দিন কে শিলংয়ে ফেলে রাখা হয়, জয়নুল আবেদিন ফারুকে পিটিয়ে নগ্ন করা হয়, ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয় অথচ দলীয় ভাবে বড় কোন কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেননি। আজ অনেকেই সংস্কারকে মানবে না বলে হারকিউলিকসের মত শক্তি দেখাচ্ছে আর টারজানের মত হুংকার দিচ্ছে। এই শক্তি হুংকার ১৬ বছরে কেনো দেখাতে পারলেন না? আমাদের জীবনমান পরিবর্তন সর্বক্ষেত্রে আমূল সংস্কার উন্নয়ন আমাদেরই করতে হবে জ¦ীন পরী এসে করে দিবে না। শরষের মধ্যে ভূত-ভূত তাড়াবেন কি ভাবে? বেড়ায় তো ক্ষেত খাচ্ছে ভয় তো এখানে! কিন্তু সবার অধিকার পূর্ণ প্রয়োগ করতে পারে বাক স্বাধীনতা থাকে, মৌলিক অধিকার থাকে, নিরাপত্তায় জীবন ধারণ করতে পারে, চাঁদাবাজি, দখল বাজি থেকে মুক্ত হতে পারে, সরকারী বেসরকারী দুর্নীতি বাজদের জবাব দিহিতা থাকে, আয় বর্হিভূত সম্পদ যেনো সরকারী কোষাগারে যায়, এমন সব সংস্কারের আমরা দেখতে চাই। আজ কালো টাকার দূর্বৃত্তায়নের হাতে রাজনীতি চলে গেছে। লেজুরবৃত্তি রাজনীতি বন্ধ করতে হবে, না পারলে দেশীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আমরা কারো ইশারায় চলি কলকাঠি নাড়ে অন্য কোন মুরব্বি দেশ থেকে। নীতি নির্ভর রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত না হলে এবং লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি যতদিন বন্ধ না হবে ততদিন সবাইকে অসহায় হয়ে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হবে । দেশ প্রেমিক নেতাদের সর্তক থাকতে হবে যেনো রাজনীতির শীতল হাওয়ায় চাটারদল চাটুকাররা আজায়গায় কু-জায়গায় তেল মর্দন করতে না পারে।

লেখক, সাংবাদিক, কলামিষ্ট, নাট্যকার

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন