ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার চরমছলন্দ গ্রামের মাইজপাড়া এলাকায় প্রভাবখাটিয়ে রইছ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির বসতবাড়ীর ২০ শতাংশ জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই ভাতিজা রফিকুল ইসলাম ভুট্টুর বিরুদ্ধে। এঘটনায় স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও নানা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রইছ উদ্দিন এবং রফিকুল ইসলাম ভুট্টো আপন চাচা-ভাতিজা।
জানা গেছে, তাদের মধ্যে জমিজমার পৈত্রিক সুত্রে মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিগত কয়েকবছর আগে জমির খতিয়ানে উল্লেখিত ৮৩২৭ এর একটি দাগ নম্বরে চাচা রইছ উদ্দিনের নামে ৩৬ শতাংশ জায়গা রেকর্ড হয়। পরে সেখানে রেকর্ড ভেঙে জমির অংশ দাবি করেন ভাতিজা রফিকুল ইসলাম ভুট্টো।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাইজপাড়া এলাকার ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ মৃত আপ্তর আলীর ছেলে রইছ উদ্দিন একজন সহজ সরল ও বয়সের ভাড়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি নামেও পরিচিত। খোকন ও বিল্লাল নামে তার দুই ছেলে রয়েছে। তার ছেলে খোকন মিয়া প্রবাসে থাকার সুযোগে চাচাকে রেকর্ড ভাঙ্গার কথা বলে গফরগাঁও উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে নিয়ে যান ভাতিজা রফিকুল ইসলাম। পরে কৌশলে তার কাছ থেকে ২০ শতাংশ জমি লিখে নেয় সে। এরই মধ্যে বসতবাড়ি আঙ্গিনা থেকে জোরপূর্বক বাঁশ এবং গাছও কেটে নেয় সে।
রইছ উদ্দিন বলেন সেখানে আগে দলিল রেডি করে রেখেছেন রফিকুল। আমি যাওয়া মাত্রই তরিগড়ি করে আমার কাছ থেকে টিপসই রেখে দেয় এবং কাজ হয়েগেছে বলে বাড়িতে নিয়ে আসে। জমি বিক্রি বা বদলের রেজিষ্ট্রেশন করার নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসারের সামনে দু'পক্ষের স্বীকারোক্তির বিষয় থাকলেও দলিল লেখকের সহযোগিতায় আগে থেকেই ম্যনেজ করে রাখেন রফিকুল ইসলাম।
এব্যাপারে রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলতে গেলে প্রথমে ক্যামেরা দেখে সাংবাদিকদের উপর চড়াও হন। একাধিক চেষ্টার পর তিনি স্বীকার করেন প্রতারণা করে লিখে নেওয়া বসতভিটায় চাচাকে দয়া করে থাকতে দিয়েছেন। চাচা মৃত্যুর আগপর্যন্ত থাকতে পারবেন বলেও পরিষ্কার করেন রফিকুল ইসলাম।
বিষয়টি এলাকার লোকজনে মধ্যে জানাজানি হলে শালিসের মাধ্যম সমাধানের জন্য বহুবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন এলাকাবাসী।