বাগেরহাট সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মধুদিয়া ইচ্ছাময়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজনের শেষ দিনে, সোমবার (২০ এপ্রিল), বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬।
১৯ ও ২০ এপ্রিল (রবিবার ও সোমবার) অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস. এম. মোর্শেদ। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সেলিম মাসুদ এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক বাবু প্রবীর কুমার ঘোষ।
দুই দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় মোট ৪৮টি ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী দিনে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আনন্দ।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল “যেমন খুশি তেমন সাজো” প্রতিযোগিতা, যা দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে। এছাড়াও নৃত্য, গান, আবৃত্তি ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে।
বক্তব্যে যা বললেন অতিথিরা:
প্রধান অতিথি এস. এম. মোর্শেদ বলেন,
“শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে তাদের মেধা, মনন ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটে। এ ধরনের আয়োজন তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মোঃ সেলিম মাসুদ বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করা। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে তারা যেন একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে—সেই উদ্দেশ্যেই আমরা এ ধরনের আয়োজন করে থাকি।”
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বাবু প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন,
“শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তাদের আনন্দ ও প্রতিভা আমাদের ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করতে অনুপ্রাণিত করে।”
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং তাদের সুস্থ বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে।