শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
বাউফলে দেড়শো টাকার দ্বন্দ্বে পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল

বাউফলে দেড়শো টাকার দ্বন্দ্বে পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল

মো. রাকিব সিকদার

পটুয়াখালীর বাউফল সরকারি কলেজে স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিলের ঘটনায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শতাধিক পরীক্ষার্থী। দেড়শ টাকার আর্থিক দ্বন্দ্ব ও কেন্দ্র পরিচালনার ব্যয় সংকটের কারণে শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রটি বাতিল করে অন্যত্র স্থানান্তর করেছে।

জানা গেছে, আগামী ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য স্নাতক (সম্মান) শেষ বর্ষের পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন করে পটুয়াখালী জেলা সদরের আবদুল করিম মৃধা কলেজে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাউফল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে বাউফল সরকারি কলেজে স্নাতক (সম্মান) শিক্ষা কার্যক্রম চালু হওয়ার পর থেকেই নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। তবে ২০১৭ সালে কেন্দ্র পরিবর্তন করে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরের কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজে নেওয়া হয়। চলতি বছর পরীক্ষা শুরুর মাত্র ১০ দিন আগে হঠাৎ করে কেন্দ্র আবারও পরিবর্তন করে জেলা সদরে স্থানান্তর করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার্থী প্রতি কেন্দ্র ফি হিসেবে ৪৫০ টাকা আদায় করা হলেও কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজকে দেওয়া হয় ৩০০ টাকা। বাকি ১৫০ টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে কেন্দ্র পরিচালনা ব্যাহত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ কেন্দ্র প্রত্যাহারের আবেদন করে। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষা অধিদপ্তর নতুন কেন্দ্র নির্ধারণ করে।

এদিকে কেন্দ্র দূরে সরিয়ে নেওয়ায় চরম উদ্বেগ ও ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে সময়, অর্থ ও মানসিক চাপ—সব দিক থেকেই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিশেষ করে নারী পরীক্ষার্থী, শিশু সন্তানের মা এবং অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী জাবের মাহমুদ বলেন, পরীক্ষার দিন অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রওয়ানা দিতে হবে। যাতায়াতসহ পুরো প্রক্রিয়ায় একটি দিনের অধিকাংশ সময় চলে যাবে, যা মানসিক চাপ বাড়াবে।

অন্য এক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বাউফল থেকে পটুয়াখালী যাওয়ার সড়ক ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বিলম্ব বা দুর্ঘটনার কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এনায়েত হোসেন বলেন, “কেন্দ্র পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না পাওয়ায় নিজেদের খরচে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। তাই কেন্দ্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছি।”

অন্যদিকে বাউফল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বশার তালুকদার বলেন, পরীক্ষার্থী প্রতি ৪৫০ টাকা আদায়ের বিষয়টি সঠিক, তবে বিভিন্ন খরচ বাবদ ১৫০ টাকা রাখার বিধান রয়েছে। কেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়টি তারা আগেই জানতেন না বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী বছর থেকে বাউফলেই পরীক্ষা কেন্দ্র পুনর্বহালের চেষ্টা চলবে বলে জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন