মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
এখন পর্যন্ত ইরানের যেসব শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন

এখন পর্যন্ত ইরানের যেসব শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন

ডেস্ক রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও জটিল ও মারাত্মক আকার নিতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে জ্বালানি বাজার এবং সামুদ্রিক পরিবহনে ব্যাপক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন যেসব ইরানি শীর্ষ নেতা ও কমান্ডার


আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি: ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ক্ষমতায় থাকা খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিন দশকের শাসনকালে তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতা দৃঢ় করেছিলেন। তিনি ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধিতে কাজ করেছিলেন, যদিও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমের সঙ্গে সংঘাত চলছেই।

শীর্ষ কর্মকর্তা

আলি লারিজানি: ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি ছিলেন সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব ও একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি গত ১৭ মার্চ পারদিস এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। হামলার সময় তার ছেলে এবং একজন উপদেষ্টাও মারা যান।

আলি লারিজানি সাবেক সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং ইরানের নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

ইসমাইল খাতিব: ইরানের গোয়েন্দা প্রধান ইসমাইল খাতিব গত ১৮ মার্চ ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। তিনি কঠোরপন্থী ধর্মগুরু ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। খাতিব আয়াতুল্লাহ খামেনির অফিসে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন এবং ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ইরানের সিভিল গোয়েন্দা সংস্থা নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তার মৃত্যুর ফলে ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

আলী শামখানি: প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন আলী শামখানি। এছাড়াও তিনি পারমাণবিক নীতির মূল ব্যক্তি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, তেহরানে চালানো মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযানে সর্বোচ্চ নেতার পাশাপাশি নিহত হন শামখানি।

শীর্ষ সামরিক কমান্ডার


মোহাম্মদ পাকপুর– তিনি ছিলেন ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী ইসলামী বিপ্লবী গার্ডস কর্পসের প্রধান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে হামলায় তিনি নিহত হন। তিনি হোসেন সালামির পর র‍্যাঙ্কে উঠেছিলেন।

আজিজ নাসিরজাদেহ– ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও দীর্ঘদিন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা পদে থাকা আজিজ নাসিরজাদেহ গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় মারা যান। বিমান বাহিনীর সাবেক কমান্ডার ও সশস্ত্র বাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা নীতির ক্ষেত্রে তার ব্যাপক ভূমিকা ছিল।

আবদুলরহিম মুসাভি: ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদুলরহিম মুসাভিও ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় হামলায় নিহত হয়েছেন। দীর্ঘদিন সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা এবং নিয়মিতি বাহিনীর (আরতেশ) সাবেক প্রধান হওয়ায় তিনি ইরানের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমন্বয় এবং নিয়মিত নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন।

গোলামরেজা সোলেইমানি: ইরানের অত্যন্ত প্রভাবশালী বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি। তিনি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। রেভল্যুশনারি গার্ডের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব অটুট রাখার দায়িত্বে ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন