যশোরের অভয়নগরে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের হোতা হিসেবে পরিচিত মুসলিমা আক্তার উর্মির অন্ধকার জগতের প্রতিবাদ করায় তার নিজ স্বামী মেহেদী হাসান চরম আইনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উর্মির বেপরোয়া মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনসহ যশোর আদালতে ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করেছেন বলে ভুক্তভোগী দাবি করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,মুসলিমা আক্তার উর্মি দীর্ঘদিন ধরে তার ভাড়া বাসায় মাদক ও অসামাজিক আড্ডা চালিয়ে আসছিলেন। ভুক্তভোগী মেহেদী হাসানের দাবি, তিনি এই অসামাজিক কাজ বন্ধ করে স্ত্রীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলে উর্মি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। নিজের অপকর্ম আড়াল করতে এবং স্বামীকে দমানোর জন্য তিনি পরিকল্পিতভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং পরবর্তীতে অভয়নগর আমলী আদালত, যশোরে একটি মামলা দায়ের করেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে।
মুসলিমা আক্তার উর্মির এই বেপরোয়া আচরণের উৎস হিসেবে তার পারিবারিক মাদক সিন্ডিকেটের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার বাবা থেকে শুরু করে দুই দুলাভাই-যাঁরা একাধিক মামলার আসামি ও চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত-তাদের মদদেই এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ৫ই আগস্টের পর তারা সরাসরি এলাকায় না থাকলেও মুসলিমা আক্তার উর্মি ও তার বোন লিজা ও আফরোজা মিলে এই চক্র নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ,মাদক ক্রয়ের টাকার জন্য উর্মি প্রায়ই মেহেদী হাসানকে মানসিক নির্যাতন ও আত্মহত্যার হুমকি প্রদান করেন। গত ০৭/০৩/২৬ তারিখে মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে ব্লেড দিয়ে নিজের হাত কেটে নাটকীয় পরিবেশ তৈরি করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন পুরুষের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক এবং অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণের মাধ্যমে তিনি পারিবারিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, রাজা ফার্নিচারের গলিতে গোপনে ভাড়া নেওয়া বাসায় অসামাজিক কার্যক্রমের যে অভিযোগ উঠেছে, তার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও র্যাবের কঠোর অভিযান জরুরি। একজন নিরপরাধ স্বামীকে হয়রানি থেকে বাঁচাতে এবং মাদকের এই আখড়া গুঁড়িয়ে দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে মুসলিমা আক্তার উর্মির মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "মেহেদী আপনাকে দিয়ে আমার কাছে ফোন দিয়েছে। আমি আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা ও সংবাদ সম্মেলন করেছি, এটি প্রশাসন তদন্ত করবে। আপনাকে আমি কিছু বলব না।" নিউজ করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। অন্যদিকে তার বোন আফরোজা জানান, তারা যা করার নিয়ম অনুযায়ী করেছেন এবং বাকিটা প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।