রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক, বেদনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সাদীয়া মাহমুদ মীম প্রেরিত আহ্বায়ক এস এম সুইট ও সদস্য সচিব ইয়াশিরুল কবির সৌরভের যৌথ বিবৃতিতে গভীর শোক, বেদনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক এস এম সুইট এবং সদস্য সচিব ইয়াশিরুল কবির সৌরভ বলেন, এ দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারগুলোর আহাজারি ও অসহায়তা ভাষায় প্রকাশের ঊর্ধ্বে। তারা নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া জেলায় অবস্থিত হওয়ায় এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী হওয়ায় বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সামনে ঈদ-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ক্যাম্পাসে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটসহ দেশের বিভিন্ন ফেরিঘাটে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি, নিয়মকানুন বাস্তবায়নে শিথিলতা এবং তদারকির অভাব রয়েছে। এ দুর্ঘটনা আবারও সেই বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
তারা ৪ দাবি তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে-
ফেরিঘাটগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও প্রশিক্ষিত বাহিনী মোতায়েন, যানবাহন ওঠানামায় সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, চালক ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর দ্রুত সংস্কার ও আধুনিকায়ন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অব্যবস্থাপনা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছরের ঈদ যাত্রায় সার্বিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যার ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ‘সৌহার্দ্য’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে উঠার সময় পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। সংঘটিত এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া ৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনও অন্তত ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।