মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পরও চলছে গোপীনাথপুর মেলা: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দর্শনার্থী হয়রানির অভিযোগ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পরও চলছে গোপীনাথপুর মেলা: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও দর্শনার্থী হয়রানির অভিযোগ

মো: জান্নাতুন নাঈম

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথপুর মেলার নির্ধারিত ১৩ দিনের অনুমতির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হলেও, রহস্যজনক কারণে মেলাটি এখনো অব্যাহত রয়েছে। শুধু অবৈধভাবে মেলা চালানোই নয়, সেখানে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, দর্শনার্থীদের পকেটমার হওয়া এবং মাত্রাতিরিক্ত দামে খাবার বিক্রির মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

​স্থানীয় ও মেলা সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর গোপীনাথপুরে অনুষ্ঠিত এই মেলাটি ঘিরে দূর-দূরান্তের মানুষের ব্যাপক আগ্রহ থাকে। তবে এবার মেলার জন্য প্রশাসনের দেওয়া ১৩ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও কোনো এক অদৃশ্য খুঁটির জোরে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন আয়োজকরা। মেলার ভেতরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে চরম অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা সেখানে আগত হাজারো দর্শনার্থী ও ভক্তদের জন্য মারাত্মক জনস্বাস্থ্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​মেলায় আগত দর্শনার্থী ও ভক্তরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সংঘবদ্ধ পকেটমার চক্রের অবাধ বিচরণের কারণে অনেকেই টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। 

এছাড়া মেলার খাবারের দোকানগুলোতে চলছে চরম নৈরাজ্য। সাধারণ মানুষের পকেট কাটতে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে নিম্নমানের খাবার। দর্শনার্থীদের অভিযোগ, মেলায় একটি সাধারণ ডাল/পুরি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে, যা খেটে খাওয়া ও সাধারণ মানুষের নাগালের একেবারেই বাইরে।

​মেলার এমন বেহাল দশা এবং অবৈধ কার্যক্রমের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরা। 

আমিনুর নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "অনুমতি শেষ হওয়ার পরও মেলা কীভাবে চলছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। সাধারণ মানুষ এখানে এসে পকেটমার ও অতিরিক্ত দামের শিকার হয়ে হয়রানির মুখে পড়ছেন। একটি ডালপুরি ১৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, যা রীতিমতো ডাকাতি।"

​মেলায় চলমান এই নৈরাজ্য, অবৈধ কার্যক্রম এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ অবিলম্বে বন্ধ করতে ব্যবসায়ী আমিনুরসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন