মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কারণে পুরো বাংলাদেশ জুড়েই এখন জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মতো জাতীয় এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে উত্তরের জেলা জয়পুরহাটেও।
শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না ক্রেতারা। সরবরাহ না থাকায় শহরের জয়পুর ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার তেল দিচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে আমদানি ব্যাহত হওয়ায় দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ডিপোগুলো থেকে পাম্পগুলোতে চাহিদামতো জ্বালানি (অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল) সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে দেশের অনেক পাম্প ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জয়পুরহাট শহরের জয়পুর ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় শত শত যানবাহনের উপচে পড়া ভিড়। তেল নিতে আসা সাধারণ মানুষ তীব্র রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। সিরিয়াল মেইনটেইন করে পাম্পের কাছে পৌঁছালেও মাত্র এক-দেড় লিটার তেল নিয়ে চরম হতাশা নিয়ে ফিরতে হচ্ছে তাদের।
দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সারাদেশেই নাকি তেলের সংকট, কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষ তো এর বলি হতে পারি না। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে রোদে দাঁড়িয়ে পাম্পে আসার পর বলছে ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হবে না। এইটুকু তেলে আমরা কতদূর যাব আর কীভাবে দৈনন্দিন কাজ করব?"
তেল নিতে আসা আরেক ভুক্তভোগী ক্রেতা বলেন, "সংকটের সুযোগ নিয়ে অনেকেই আবার কালোবাজারে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। আমরা পাম্পে টাকা দিয়েও চাহিদামতো তেল পাচ্ছি না, প্রশাসনকে অবশ্যই এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।"
চাহিদামতো তেল না দিয়ে মাত্র ২০০ টাকার তেল দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে জয়পুর ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, "এটি আমাদের পাম্পের কোনো নিজস্ব সংকট নয়, পুরো দেশেই তেলের সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়েছে। ডিপো থেকে আমাদের চাহিদামতো জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না।
আমাদের কাছে যে সামান্য মজুত আছে, তা দিয়ে সবাইকে যাতে অন্তত কিছুটা হলেও তেল দিতে পারি, মূলত সেই চিন্তা থেকেই রেশনিং করে মোটরসাইকেল প্রতি সর্বোচ্চ ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। ডিপো থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কিছুই করার নেই।"
জ্বালানি তেলের এই দেশব্যাপী সংকটের কারণে জয়পুরহাট শহরের যান চলাচল, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
দ্রুত বিকল্প উপায়ে জ্বালানি আমদানি করে এই সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।