জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠকে গণভোট অধ্যাদেশ কার্যত বাতিলের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা।
সোমবার (৩০ মার্চ) মুখপাত্র সাদীয়া মাহমুদ মীম প্রেরিত সংগঠনটির আহ্বায়ক এস এম সুইট ও সদস্য সচিব ইয়াশিরুল কবির সৌরভ এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গণভোট অধ্যাদেশটি বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন না করে বাতিলের উদ্যোগ ‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি’ এবং জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি অবমাননা। একই সঙ্গে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত সংস্কার অধ্যাদেশগুলোকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটের আয়োজন করেছিল। সে সময় বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তিগুলো জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেয়।
তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সেই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘গণভোটের কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে’ মন্তব্যকে তারা ‘হাস্যকর ও অগণতান্ত্রিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় অস্বীকার করা হলে একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
বিবৃতিতে সরকারের প্রতি তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়, গণভোটের রায়কে অবিলম্বে আইনি ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে দলীয়করণের প্রচেষ্টা বন্ধ করা এবং অতীত স্বৈরাচারী শাসনের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়া।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শুরু হওয়া রাষ্ট্র সংস্কারের ধারাকে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া হবে না। সরকার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তারা।