মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
লক্ষ্মীপুরে জ্বালানি সংকটে সেচ দিতে না পেরে দিশেহারা কৃষক

লক্ষ্মীপুরে জ্বালানি সংকটে সেচ দিতে না পেরে দিশেহারা কৃষক

বিশেষ প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের  চলতি বোরো মৌসুমে তীব্র জ্বালানি সংকটে জমিতে সেচ দিতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। সেচনির্ভর এই মৌসুমে ডিজেল ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে ব্যাহত হচ্ছে জমিতে পানি দেওয়া, ফলে ইরি,বোরো উৎপাদনে  নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অনেক কৃষক সেচ পাম্প চালাতে প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না। আবার কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নির্ধারিত সময়েও সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে জমিতে পানি স্বল্পতা দেখা দিয়েছে, যা ধানের ফলনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সময়মতো পানি না পেলে বোরো ধানের ফলন কমে যায় এবং ফসল চিটা হয়ে যায়। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে তারা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সেচ দিতে পারছেন না। অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি দামে ডিজেল কিনছেন, এতে উৎপাদন খরচ দ্বিগুন বেড়ে যাচ্ছে।

রামগঞ্জের  কৃষক শামসুল আলম, ফয়েজ, হেল্লাল সহ অনেকেই জানান, “আগে যেখানে নির্দিষ্ট দামে সহজেই ডিজেল পাওয়া যেত, এখন সেখানে দুই,তিনগুণ  টাকা দিয়েও সময়মতো ডিজেল  পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আমাদের চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে।”

জেলা  কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে ৩৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে   বোরো চাষ হয়েছে। তবে জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, কৃষকদের সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে কৃষকেরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চান। তাদের দাবি, সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সহজলভ্য দামে ডিজেল সরবরাহ করতে করা। তা না হলে বোরো মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। 

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন