মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
'মঙ্গল শোভাযাত্রা'র নামে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিহতের ঘোষণা হেফাজতে ইসলামের

'মঙ্গল শোভাযাত্রা'র নামে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিহতের ঘোষণা হেফাজতে ইসলামের

ডেস্ক রিপোর্ট

আসন্ন পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের প্রচেষ্টাকে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতি, স্বকীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান আজ সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই কঠোর বিরোধিতা প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপস্থাপিত সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর বক্তব্য সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক। তিনি দাবি করেন, সংস্কৃতিমন্ত্রীর বক্তব্যে আসন্ন পহেলা বৈশাখে সর্বজনগ্রাহ্য ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে পরিত্যক্ত ও সাম্প্রদায়িক ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের কৌশলী প্রচেষ্টা ফুটে উঠেছে। আনন্দ শোভাযাত্রা ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও অত্যন্ত অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর।

হেফাজত মহাসচিব ঐতিহাসিকভাবে দাবি করেন, ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সর্বপ্রথম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শুরু থেকেই এর নাম ছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। কিন্তু ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এদেশের ‘কালচারাল সেক্যুলার ফ্যাসিস্টরা’ পূর্বের নাম পাল্টে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ রেখে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ভুয়া দাবি প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে।

তিনি আরও বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আচরিত ধর্মীয় ঐতিহ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে পহেলা বৈশাখের মতো জাতীয় উৎসবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হলে ওলামায়ে কেরাম চুপ করে বসে থাকবে না। গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ‘ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেট’ ভেঙে বর্ষবরণের আদি ও আসল নাম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। এখন পুনরায় সেই সাম্প্রদায়িক নাম ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করা হবে।

আল্লামা সাজেদুর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, অতীতে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় মরহুম খালেদা জিয়ার ‘অশুভ মূর্তি’ বানিয়ে নোংরা রাজনীতি করা হয়েছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে নিতাই রায় চৌধুরীকে সংস্কৃতিমন্ত্রী বানানোর ক্ষেত্রে তারা কোনো বিরোধিতা করেননি কারণ হেফাজতে ইসলাম সাম্প্রদায়িকতা লালন করে না। কিন্তু সেই ঔদার্যের সুযোগ নিয়ে যারা হিন্দুত্ববাদী ও আধিপত্যবাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে পুনরায় সুযোগ করে দিতে চাইবে, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। ইনশাআল্লাহ।

প্রধান উপদেষ্টা : ইমাম হোসেন, নয়া সংবাদ মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক ৩৩, তোপখানা রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত.

প্রিন্ট করুন