মাধবপুরের মনতলা স্টেশনের কাছে তেলবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ১৮ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় সচল হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন সংস্কার কাজ শেষ হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। মনতলা স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান খাদেম এই স্বস্তির খবর নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার রাত তখন সাড়ে ৯টা। চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে একটি মালবাহী ট্রেন সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। মনতলা স্টেশন অতিক্রম করার মুহূর্তেই ঘটে বিপত্তি। বিকট শব্দে ট্রেনের ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ৪টি বগি লাইনের পাশে উল্টে যায় এবং একটি বগি গিয়ে পড়ে পাশের ডোবার পানিতে। মুহূর্তেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বগি থেকে চুইয়ে পড়া তেল সংগ্রহের জন্য স্থানীয়দের মধ্যে হিড়িক পড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষা করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ।
হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সৈয়দ ইশতিয়াক মোরশেদ জানান, তাদের উদ্ধারকারী দল নিজস্ব উদ্যোগে প্রায় এক হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেছে, যা সরকারি সম্পদের বড় অপচয় রোধ করেছে।
আখাউড়া থেকে আসা উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন মধ্যরাত থেকেই কাজ শুরু করে। তবে একটি বগি সেতুর নিচে পানিতে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ বেশ জটিল হয়ে পড়ে। রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান জানান, প্রতিটি বগিতে প্রায় ৩৯ হাজার লিটার তেল ছিল। প্রাথমিক হিসাবে কয়েকটি বগি থেকে ৩০% এবং অন্যগুলো থেকে ৫-১০% তেল হারিয়ে গেছে।
দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা ট্রেন বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। বিভিন্ন স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে অনেকে টিকিট ফেরত দিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বিকেল থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও সিডিউল বিপর্যয় কাটাতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে ধারণা করছে রেল কর্তৃপক্ষ।