নবীনদের বরণে প্রস্তুত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নবীনদের বরণকে ঘিরে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ক্লাস। এই নতুন যাত্রাকে কেন্দ্র করে উচ্ছ্বাস, স্বপ্ন ও সম্ভাবনায় ভরপুর হয়ে উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
দীর্ঘ ভর্তি প্রক্রিয়ার ধাপ পেরিয়ে আসা নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক ও সিনিয়ররা প্রস্তুত করেছে উষ্ণ অভ্যর্থনা। নতুন মুখগুলোর চোখে ভাসছে ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নযাত্রাকে সুন্দর ও স্মরণীয় করে তুলতে কুবি পরিবার অপেক্ষায় আছে নবীনদের স্বাগত জানানোর।
নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে ইমিডিয়েট সিনিয়ররাও নানা আয়োজন করেছে। অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাহিয়ান জানান,
“নতুন ব্যাচকে স্বাগত জানাতে আমরা ফুল, উপহার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। তাদের জন্য দিনটি বিশেষ করে তুলতে চাই। এতে আমাদের পারস্পরিক বন্ধন আরও মজবুত হবে।”
নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া রহমান মলি বলেন,
“লালমাই পাহাড়ের বুকে, প্রকৃতির কোলে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের নতুন শিক্ষাজীবন যেন জ্ঞান অর্জন ও নতুন অভিজ্ঞতার এক দারুণ সূচনা হয়। আশা করি, তারা এই ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য উপভোগ করবে এবং নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। সকল নবীন শিক্ষার্থীকে শুভকামনা ও স্বাগতম।”
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাসরিন জাহান নিলা বলেন,
“নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই নতুন অধ্যায়ে তারা তাদের স্বপ্নের পথে প্রথম পদক্ষেপ রাখছে। তাদের চোখে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ঝিলিক দেখাই আমাদের আশা ও অনুপ্রেরণা।”
লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহনা মাঈশা মিম বলেন,
“নবাগতদের স্বাগত জানাতে ক্যাম্পাসে নানা ব্যানার ও পোস্টার দিয়ে সাজানো হয়েছে। আশা করি, এই দিনটি তাদের জন্য আনন্দময় ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা চাই, তারা এখান থেকে ভালো কিছু শিখে নিজেদের গড়ে তুলুক।”
নবীনদের সুষ্ঠুভাবে বরণ করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। নবাগত শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি, একাডেমিক কাঠামো ও সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। ক্যাম্পাসে র্যাগিং ও হয়রানি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে প্রক্টরিয়াল বডি সক্রিয় ভূমিকা রাখছে এবং ইতোমধ্যে সচেতনতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে বেরিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো স্বতন্ত্র পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
আপনার মতামত লিখুন