রায়পুরে ডাব বাণিজ্যের জোয়ার, মাসে লেনদেন ৫ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

রায়পুরে ডাব বাণিজ্যের জোয়ার, মাসে লেনদেন ৫ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে
০১ এপ্রিল ২০২৬, ২:০৬ পিএম

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ডাবকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী ও বিস্তৃত বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। প্রতি মাসে এখানে পাঁচ কোটির টাকারও বেশি ডাব লেনদেন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসেই প্রায় ১৫ কোটি টাকার ডাব ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও প্রায় এক কোটি টাকার ডাব বিক্রি হয়েছে।

রায়পুরের মাটি ও আবহাওয়া নারিকেল চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল হওয়ায় উপজেলার বসতভিটা, উঁচু জমি, পতিত ভূমি ও ঘেরের পাড়জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য নারিকেল গাছ। এসব গাছ থেকেই উৎপাদিত ডাব এখন বহু কৃষক পরিবারের আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মৌসুমভিত্তিক প্রায় ছয় হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্য মতে, বাণিজ্যিকভাবে পরিকল্পিত নারিকেল বাগান কম থাকলেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গাছ থেকেই বৃহৎ পরিসরে ডাব সংগ্রহ করা হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরের অন্যান্য উপজেলার তুলনায় রায়পুরেই নারিকেল গাছের সংখ্যা বেশি। এখানকার ডাবের পানি স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় সারাদেশে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

রায়পুরের কেরোয়া ও চরবংশী এলাকার অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী মনুয়া হোসেন ও জাকির মিয়া জানান, প্রায় ১৮ বছর ধরে তারা এই পেশায় যুক্ত। শুরুতে স্বল্প পুঁজি নিয়ে ঢাকায় ডাব সরবরাহ করলেও বর্তমানে তাদের ব্যবসা বহুগুণে বিস্তৃত হয়েছে। তারা বলেন, “প্রতি শত ডাব আমরা ১,৫০০ টাকায় কিনে পাইকারিতে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকায় বিক্রি করি। গরম যত বাড়ে, চাহিদা ও দামও তত বাড়ে।” বর্তমানে তারা প্রতিদিন ২ থেকে ৩টি ট্রাক ডাব দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছেন।

এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ১০০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। বড় ব্যবসায়ীরা তাদের ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাদন দিয়ে থাকেন। এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গ্রামে ঘুরে গৃহস্থদের গাছ থেকে ডাব সংগ্রহ করে থাকেন। পরে আকারভেদে ডাব তিনটি গ্রেডে ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি ডাব ৩০ থেকে ৪০ টাকায় ক্রয় করা হয়।

স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও ডাবের গুরুত্ব অপরিসীম। জেলা সিভিল সার্জন জানান, ডাবের পানিতে পটাসিয়ামসহ নানা পুষ্টিগুণ রয়েছে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে তিনি খালি পেটে না খেয়ে খাবারের পর ডাবের পানি পান করার পরামর্শ দেন।

রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “এ অঞ্চলে নারিকেলের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি উন্নত জাতের নারিকেল চারা বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়াবে।”

সব মিলিয়ে, রায়পুরের ডাব এখন আর শুধু একটি সাধারণ ফল নয়—এটি পরিণত হয়েছে সম্ভাবনাময় এক অর্থকরী পণ্যে। এই খাত ঘিরে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে টেকসই আয়ের সুযোগ।

বাণিজ্য-অর্থনীতি এর আরও সংবাদ

আরো পড়ুন