লিতানি নদীর ‘লাইফলাইন’ ধ্বংস করল ইসরায়েল
ছবিঃ সংগৃহীত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই লেবানন সীমান্তে যুদ্ধের ভয়াবহতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। দক্ষিণ লেবাননের সংযোগ রক্ষাকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাসমিয়া সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনী এখন লেবাননের মূল ভূখণ্ড থেকে দক্ষিণাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল নিয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাতজ গত রোববার সরাসরি এক সামরিক আদেশে লিতানি নদীর ওপর অবস্থিত সবকটি সেতু ধ্বংস করার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের পরপরই কাসমিয়া সেতুতে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। লেবানন সরকারের মতে, গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো ধ্বংস করা মূলত একটি 'পরিকল্পিত স্থল আগ্রাসনের' প্রাথমিক ধাপ।
ইসরায়েলি পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিতানি নদীর ওপরের সব সেতু ধ্বংসের পাশাপাশি সীমান্ত সংলগ্ন লেবাননের গ্রামগুলোর বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়ে একটি দুর্ভেদ্য ‘বাফার জোন’ তৈরি করা হবে। এজন্য সীমান্তে কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে সেনা ও আধুনিক ট্যাঙ্কের বহর।
এদিকে, এই সংঘাত এখন প্রাণঘাতী মোড় নিয়েছে। লেবানন থেকে ছোঁড়া গুলিতে প্রথমবারের মতো একজন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ লেবাননের সম্মুখ যুদ্ধে আরও দুই ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ছায়াযুদ্ধ, অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলের এই ‘পোড়ামাটি নীতি’—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক মহাসঙ্কটের দ্বারপ্রান্তে। লিতানি নদী পর্যন্ত ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এই চেষ্টা কয়েক দশকের মধ্যে লেবাননের জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন