যশোরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজের উদ্বোধন

জাতীয়
যশোরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজের উদ্বোধন

যশোরসহ ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইল জেলার প্রায় ৮০ লাখ মানুষ উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাবেন।

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৫:২৬ পিএম

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে যশোরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দুপুর ২টার দিকে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে তিনি এই মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার যশোরে এই মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেয় এবং শহরের দক্ষিণে হরিণার বিলে ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে প্রকল্পের কাজ স্থবির থাকলেও ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে অস্থায়ীভাবে জেনারেল হাসপাতালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৬ সালে নিজস্ব একাডেমিক ভবন নির্মিত হলেও নিজস্ব হাসপাতালের অভাব দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন পায় এবং বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০২৫ সালের জুন মাসে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ সচল হয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় ৬৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে: ১০ তলাবিশিষ্ট ৫০০ শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল ভবন। শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য আলাদা আবাসন ব্যবস্থা। নার্সিং কলেজ, হোস্টেল এবং স্টাফ ডরমেটরি। চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন। ৫০০ আসন বিশিষ্ট আধুনিক মিলনায়তন, মসজিদ ও নিজস্ব বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র।

এই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে যশোরসহ ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইল জেলার প্রায় ৮০ লাখ মানুষ উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাবেন। একইসঙ্গে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল শিক্ষা ও গবেষণার জন্য জেনারেল হাসপাতালের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা ও যাতায়াতের ভোগান্তি লাঘব হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের যাবতীয় নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে প্রধানমন্ত্রী যশোরের শার্শায় উলাশী-যদুনাথপুর এলাকায় বেতনা নদীর সংযোগস্থলে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, যা ওই অঞ্চলের কৃষি ও পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে।