গফরগাঁওয়ে চাচার জমি কৌশলে লিখে নেওয়ার অভিযোগ ভাতিজার বিরুদ্ধে
ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার চরমছলন্দ গ্রামের মাইজপাড়া এলাকায় প্রভাবখাটিয়ে রইছ উদ্দিন (৭০) নামের এক ব্যক্তির বসতবাড়ীর ২০ শতাংশ জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই ভাতিজা রফিকুল ইসলাম ভুট্টুর বিরুদ্ধে। এঘটনায় স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও নানা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রইছ উদ্দিন এবং রফিকুল ইসলাম ভুট্টো আপন চাচা-ভাতিজা।
জানা গেছে, বিগত কয়েকবছর আগে জমির খতিয়ানে উল্লেখিত ৮৩২৭ এর একটি দাগ নম্বরে চাচা রইছ উদ্দিনের নামে ৩৬ শতাংশ জায়গা রেকর্ড হয়। পরে সেখানে রেকর্ড ভেঙে জমির অংশ দাবি করেন ভাতিজা রফিকুল ইসলাম ভুট্টো। তাদের মধ্যে জমিজমার পৈত্রিক সুত্রে এই জমির মালিকানার অংশ দাবী করে দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলে সুযোগ খুজছিলপন খুজছিলেন রফিকুল ইসলাম (ভুট্টো)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাইজপাড়া এলাকার মৃত আপ্তর আলীর ছেলে রইছ উদ্দিন (৭০) একজন সহজ সরল ও বয়সের ভাড়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি নামেও পরিচিত। খোকন ও বিল্লাল নামে তার দুই ছেলে রয়েছে। তার ছেলে খোকন মিয়া প্রবাসে থাকার সুযোগে চাচাকে রেকর্ড ভাঙ্গার কথা বলে গফরগাঁও উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে নিয়ে যান ভাতিজা রফিকুল ইসলাম। পরে কৌশলে তার কাছ থেকে ২০ শতাংশ জমি লিখে নেয় সে। এরই মধ্যে বসতবাড়ি আঙ্গিনা থেকে জোরপূর্বক বাঁশ এবং গাছও কেটে নেয় সে।
রইছ উদ্দিন বলেন সেখানে আগে দলিল রেডি করে রেখেছিলেন রফিকুল। আমি যাওয়া মাত্রই তরিগড়ি করে আমার কাছ থেকে টিপসই রেখে দেয় এবং কাজ হয়েগেছে বলে বাড়িতে নিয়ে আসে। জমি বিক্রি বা বদলের রেজিষ্ট্রেশন করার নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসারের সামনে দু'পক্ষের স্বীকারোক্তির বিষয় থাকলেও দলিল লেখকের সহযোগিতায় আগে থেকেই ম্যনেজ করে রাখেন রফিকুল ইসলাম।
এব্যাপারে রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলতে গেলে প্রথমে ক্যামেরা দেখে সাংবাদিকদের উপর চড়াও হন। একাধিক চেষ্টার পর তিনি স্বীকার করেন প্রতারণা লিখে নেওয়া বসতভিটায় চাচাকে দয়া করে থাকতে দিয়েছেন। চাচা মৃত্যুর আগপর্যন্ত থাকতে পারবেন বলেও পরিষ্কার করেন রফিকুল ইসলাম। বিষয়টি এলাকার লোকজনে মধ্যে জানাজানি হলে শালিসের মাধ্যম সমাধানের জন্য বহুবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে জামাল মিয়া (৪৫) নামে এক প্রতিবেশি বলেন, আমরা রইছ উদ্দিনের কাছ থেকে তার ভাতিজা রফিকুল ইসলামের জালিয়াতি করে জমি লিখে নেওয়ার বিষয়টি শুনেছি এবং তা সমাধানের ব্যাপারে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেছি। রফিকুল ইসলাম ভুট্টোর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে শালিস আয়োজন করা হলে তারা উপস্থিত থাকেন না। তবে এব্যাপারে একই বক্তব্য পাওয়া গেছে স্থানীয় আবুল কালাম, মইছ উদ্দিন ও নিজাম উদ্দিনের কাছ থেকেও।
চরআলগী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, রইছ উদ্দিনের কাছ থেকে প্রতারনা করে জমি লিখে নেওয়ার খবর শুনে আমরা একাধিকবার সমাধান করার চেষ্টা করেছি। কিন্ত অভিযুক্তরা (রফিকুল ইসলাম) কাউকে পাত্তা দেয় না এবং শালিসের দিন উপস্থিত থাকেন না।
এব্যাপারে চরআলগী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ ছানোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে ভুক্তভোগীকে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন তিনি। দীর্ঘদিনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আব্দুল হালিম সরদার
আপনার মতামত লিখুন