দেড় মাসের সন্তান কোলে নিয়ে কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী
যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম। ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক সংঘাত আর আইনি লড়াইয়ের মাঝে এক মানবিক দৃশ্যের সাক্ষী হলো ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ফলে নিজের দেড় মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য শিশু কাইফা ইসলাম সিমরানকে কোলেই জেলহাজতে যেতে হলো এই নেত্রীকে।
মঙ্গলবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তায় শিল্পী বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির সময় তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি আদালতকে জানান, শিল্পী বেগম সম্প্রতি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে মা হয়েছেন। নবজাতকের বয়স মাত্র ১ মাস ১৬ দিন। এই শারীরিক অবস্থা ও শিশুর ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে জামিনের জোর দাবি জানানো হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ও তদন্ত কর্মকর্তার বিরোধিতার মুখে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন নামঞ্জুর করেন।
আদেশের পর আদালত কক্ষ থেকে বের হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পী বেগম। হাজতখানায় নেওয়ার আগে আদালতের বারান্দার বেঞ্চে বসেই ক্ষুধার্ত শিশুকে দুধ খাওয়ান তিনি। এ সময় উপস্থিত জনতা ও আইনজীবীদের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। শিল্পী বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আজ আমার এই দুধের বাচ্চাকেও জেল খাটতে হচ্ছে।"
তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ১৬ জুলাই চানখাঁরপুল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল গুলিবিদ্ধ হন। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৩ জুলাই শিল্পী বেগমের উস্কানি ও সরাসরি নির্দেশে শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি রাতুলের বাসায় হামলা চালায়। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটতরাজ এবং বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এই হামলার ঘটনায় গত ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে আন্দোলন দমনে আসামির সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিকেল সোয়া ৩টার দিকে শিশুসহ শিল্পী বেগমকে আদালতের হাজতখানা থেকে জেল ভ্যানে তোলা হয়। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। নবজাতকসহ এই নেত্রীর কারাবাসের বিষয়টি এখন আদালত পাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন