সাজেকে ১৮ হাজার পরিবার অনিশ্চিত জীবন হাসপাতাল নির্মাণের দাবি এলাকাবাসির

সারাদেশ
সাজেকে ১৮ হাজার পরিবার অনিশ্চিত জীবন হাসপাতাল নির্মাণের দাবি এলাকাবাসির
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ৫:০৮ পিএম

রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘মেঘের রাজ্য’ সাজেক ভ্যালি—প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য দেশ-বিদেশে সুপরিচিত। প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত এই পাহাড়ি জনপদে নেই একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল। ফলে সামান্য অসুস্থতা থেকে শুরু করে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে প্রতিনিয়ত। 



সাজেক এলাকায় বসবাসরত প্রায় ১৮ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসা সুবিধা বলতে কার্যত কিছুই নেই। কোনো রোগী অসুস্থ হলে প্রথমে বাঘাইহাট জোন সদর থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু গুরুতর রোগী বা দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা বা উপজেলা হাসপাতালে নিতে হয়। এখানেই তৈরি হয় সবচেয়ে বড় বিপদ।


সাজেক থেকে জেলা সদর হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ৬৮ কিলোমিটার, আর বাঘাইহাট থেকে তা প্রায় ৩৬ কিলোমিটার। দুর্গম পাহাড়ি পথ, সীমিত যানবাহন এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাবে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।


 বিশেষ করে দুর্ঘটনায় আহত পর্যটকদের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার দুর্ঘটনায় দেশি-বিদেশি পর্যটক হতাহত হলেও যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় তাদের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পর্যটনের এত বড় কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও স্বাস্থ্যসেবার এমন অবহেলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।


সাজেক ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পরিচয় চাকমা  বলেন, “আমরা বারবার দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। একটি হাসপাতাল থাকলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।” একই সুর শোনা গেছে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের কণ্ঠেও। তাদের মতে, একটি আধুনিক হাসপাতাল শুধু মানুষের জীবন রক্ষা করবে না, বরং সাজেকের পর্যটন শিল্পকেও আরও নিরাপদ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে।


সাজেক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেলসন চাকমার মতে, সাজেকের মতো দুর্গম ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় অন্তত একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল বা ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। এতে দুর্ঘটনা বা হঠাৎ অসুস্থতায় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



এই বিষয়ে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুর্দশন চাকমা বলেন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই স্বপ্নের পর্যটনকেন্দ্রই হয়ে উঠতে পারে এক নীরব মৃত্যুফাঁদ। এখন সময় এসেছে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের।

সারাদেশ এর আরও সংবাদ

আরো পড়ুন